জ্বালানি তেল

ক্রড অয়েল (অপরিশোধিত) পরিশোধনের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্বালানি তেলের প্রায় ২৬% ডিজেল, ৮% অকটেন ও পেট্রোল, ২১% কেরোসিন, ২৪% ফার্নেস অয়েল, ১% জেবিও এবং ২০% অন্যান্য জ্বালানি তেল ও উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। দেশে জ্বালানি তেলের ৪৯.৭৮% যোগাযোগ, ১৮.০২% কৃষি, ২২.৮৪% বিদ্যুৎ উৎপাদন, ৪.৫৫% গৃহস্থালি ও অন্যান্য এবং ৪.৮১% শিল্প খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক বাজারজাতকৃত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের প্রাথমিক ধারনা নিম্মে সন্নিবেশিত করা হলো :
অকটেন : এইচওবিসি বা হাই অকটেন ব্লেনডেড কম্পোনেন্ট আমাদের দেশে অকটেন হিসেবে পরিচিত। অক্টেন পেট্রোলিয়াম নাফতা গ্রুপের একটি পণ্য। অকটেন নম্বর ৯৫ হলে তা অকটেন (এইচও বিসি) হিসেবে বাজারজাত করা হয়। গাড়ী, মাইক্রোবাস এবং জীপে অকটেন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
পেট্রোল : এমএস বা মোটর স্পিরিট আমাদের দেশে পেট্রোল হিসেবে পরিচিত। পেট্রোল পেট্রোলিয়াম ন্যাপথা গ্রুপের পণ্য। অকটেন সংখ্যার ভিত্তিতে অকটেন ৮০ কে পেট্রোল হিসেবে বাজারজাত করা হয়। বিশেষতঃ হালকা যানবাহন যেমন মোটরসাইকেল, গাড়ী, মাইক্রোবাস, বেবীটেক্সিতে পেট্রোল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কেরোসিন : এস কে ও অথবা সুপিরিয়র কেরোসিন অয়েল যাকে প্যারাফিন বা ল্যাম্পের তেল বা কয়লার তেল(যদিও নামটি বিলুপ্তপ্রায়) নামেও ডাকা হয়। উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিনে(জেট ফুয়েল) এবং কিছু রকেট ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যাপকভাবে কেরোসিন ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, গ্রামে গঞ্জে রাতে আলোর জন্য হারিকেন, কুপি, আমন কি চুলার রান্নার কাজের কেরোসিনের ব্যবহার হয়। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ এর উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কেরোসিনের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
ডিজেল : এইচএসডি বা হাইস্পিড ডিজেল আমাদের দেশে ডিজেল হিসেবে পরিচিত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টের মাধ্যে এইচএসডি বা ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মেশিনারি, নৌ ও স্থল পথে চলাচলকারী যানবাহন যেমন- লঞ্চ, জাহাজ, রেলগাড়ি. ট্রাক, বাস এবং সেচের ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যাপক ব্যবহার হয়।
ফার্নেস অয়েল : এইচএসএফও বা হাই সালফার ফার্নেস অয়েল আমাদের দেশে কালো তেলে হিসেবে পরিচিত। প্রধানত ছোট/বড় শিল্পকারখানার চুলিস্ন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বয়লার এবং সমুদ্রগামী জাহাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত করা হয়। ধানের তুয়ের সাথে ফার্নেস অয়েল মিশিয়ে চাপের মাধ্যমে বাঁশের মত লাঠি তৈরি করে তা গৃহস্থালির কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এফও ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
জেবিও : জেবিও বা জুট ব্যাচিং অয়েল জ্বালানি তেল হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। জেবিও পাট শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এটি পাটের আঁশকে মসৃন, নরম, সংঘবদ্ধ করে সুতা ও কার্পেট তৈরি করতে সহায়তা করে।জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন নং ২৮.০১৭.০৪০.০১.০০.০৩৫.২০১২-৬৪ তারিখ ৩১-০১-২০১৩ এর প্রেক্ষিতে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য অপরিবর্তিত রেখে ভোক্তা পর্যায়ে ডিলার কমিশন ও ট্যাঙ্কলরী ভাড়া পুণ্নিরধারণ করা হয়েছে।

Download